ঈমান কি, ঈমানের ব্যাখ্যা, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জানা ফরয

ঈমান না    হলে   মু’মিন হয় না। মু’মিন  না হলে  জান্নাত    লাভ    হয়    না।    শুধু    তৌহিদ    জান্নাত  লাভের  জন্য  যথেষ্ট  নয়।  কোরআনের  ঘোষণা  হলো-    ”যারা    ঈমান    এনেছে     এবং     সৎকাজ করেছে     তাদের     জন্য     জান্নাতুল        ফিরদাউস রয়েছে”।      সুতরাং   জান্নাত     লাভের   জন্য   শুধু তৌহিদ   নয়  -বরং  ঈমান  শর্ত।  ঈমানের  দু’টি   অংশ- তৌহিদ ও রিসালাত। এখন জানতে হবে ঈমানের অর্থ কী এবং সংজ্ঞা কী?

ঈমানের অর্থঃ
ঈমান (إِيمَان‏) শব্দটি আমনুন (آمَنَ‏)   ধাতু  হতে  নিৰ্গত   যার   অর্থ   নিষ্কৃতি   দেওয়া   ও   নিষ্কৃতি  পাওয়া।   আল্লাহর  এক    সিফাতী  নাম  (مُؤْمِن)  মু’মিন, অর্থাৎ- শাস্তি হতে নিষ্কৃতিদাতা। বান্দার গুণবাচক নামও মু’মিন- (مُؤْمِن) অর্থাৎ- নিষ্কৃতি লাভকারী।   বান্দা   মু’মিন   হলে   আল্লাহও   তার  জন্য মু’মিন হয়ে যান- অর্থাৎ তাকে আযাব হতে নিষ্কৃতি দেন।

  1. ঈমানের সংজ্ঞাঃ
    ”শরহে   আকায়েদে   নসফী”তে   এভাবে   সংজ্ঞা  দেয়া হয়েছে-
    الإيمان هو تضييق النبي صلّى اللّة عليه   وسلم  بما جاء به من عند الله –
    অর্থাৎ,       ”নবী       করিম       সাল্লাল্লাহু       আলাইহি  ওয়াসাল্লাম   ও     তাঁর    কর্তৃক    আনীত    যাবতীয় বিষয়কে সত্য বলে   মেনে  নেয়ার নাম ঈমান”।

এখানে   নবী   করিম   সাল্লাল্লাহু   আলাইহি   ওয়া  সাল্লাম  হচ্ছেন  মূখ্য      বিষয়   এবং   তিনি  কর্তৃক আনীত    যাবতীয়   বিষয়     তাঁর   সত্যতার   উপর  নির্ভরশীল।     এজন্যই     নবী     করিম     সাল্লাল্লাহু  আলাইহি          ওয়া        সাল্লাম        প্রথম         দাওয়াত  দিয়েছিলেন-   ”আমাকে   সত্যবাদী     মনে   করো কিনা?     আমি     হচ্ছি-      প্রকাশ্য      সতর্ককারী”।  আল্লাহর   পরিচয়ের   জন্য    নবীর    ওপর    ঈমান আনা পূর্বশর্ত।

ঈমানের প্রাণঃ
প্রত্যেক    বস্তুরই   দেহ   ও   প্রাণ   থাকে।      তদ্রূপ  ঈমানেরও  দেহ  এবং  প্রাণ   আছে।    সপ্ত   ঈমান হচ্ছে    দেহ    এবং    তার      প্রাণ     হচ্ছে     নবীজির মহব্বত। শেফা    শরীফ ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে উল্লেখ আছে-
ختب التبى هو روخ الإيمان
অর্থাৎ-     ”নবীজির     মহব্বতই     হচ্ছে     ঈমানের  প্রাণ”। প্রাণহীন  দেহ যেমন মৃত,   মহব্বতবিহীন ঈমানও     তদ্রূপ     মৃত।     এজন্যই     নবী     করিম  সাল্লাল্লাহু    আলাইহি    ওয়া     সাল্লাম      মহব্বতের উপর বেশী জোর দিয়েছেন এভাবে-

لا يؤ من أحَدُكُمْ حَتّى أكون أحب إليه من والده وولده وَالنّاس أجمعين و فى رواية  من   نفيسة –
অর্থাৎ- ”তোমাদের পিতা-মাতা, সন্তানাদি, সমস্ত লোক-   এমনকি   তোমাদের  নিজেদের  চেয়েও   আমাকে  বেশি  মহব্বত    না  করা  পর্যন্ত  তোমরা কেউ মো’মেন হতে পারবেনা।” (বুখারী)।

তাই, আল্লামা ইকবাল বলেছেন-
مغز قرآن روح ایمان جان دین
هست حلب رحمة للعالميس –

অর্থাৎ-    “কোরআনের    সারবস্তু,    ঈমানের    রূহ এবং দ্বীনের  প্রাণ হচ্ছে  হোব্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”।

আল্লাহ আমাদেরকে কালেমার সঠিক তাৎপৰ্য্য উপলদ্ধি করার তৌফিক দিন। আমীন।

আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ুন

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বলা শেরেক নয় , দলীল সহ প্রমাণিত

রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফায়াত করতে পারবে কিনা

জান্নাত পাওয়ার সহজ ৬ টি আমল!

 

Author: sumon ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *