গোপনে যেনা করলে তিনটি বিপদ আসবেই. – কেউ বাচাতে পারবেনা আপনাকে ,

আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ”। সূরা বনী ইসরাঈল  -৩২,

আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অপর কোন ইলাহের ইবাদত করে না, আল্লাহর নিষিদ্ধকৃত প্রাণী যথার্থ কারণ ব্যতীত হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি এসব কাজ করে, সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে হীন অবস্থায় চিরস্থায়ী হবে। তবে তারা নয়- যারা তাওবা করে এবং সৎ কাজ করে, আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলো ভালকর্ম দিয়ে পরিবর্তন করে দেন, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াশীল”। সূরা আল-ফুরকান ৬৮-৬৯

ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়কে এক’শ ঘা করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকরী করবে এদের প্রতি দয়া যেন তোমাদের অভিভূত না করে। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাক। ঈমানদারদের একটি দল যেন এদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে”।সূরা আন নূর ২

আলেমগণ বলেছেন, এটাই হচ্ছে অবিবাহিত পুরুষ-মহিলার ব্যভিচারের ইহকালীন শাস্তি। যদি তারা বিবাহিত হয় বা জীবনে একবার হলেও বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল এমন হয়ে থাকে, তাহলে তাদেরকে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করতে হবে। এটা হাদীসের নির্দেশনা । এ মৃত্যুদণ্ডেও যদি তাদের পাপের পূর্ণ প্রায়শ্চিত্ত না হয় এবং তারা উভয়েই তওবা না করে মারা যায় তাহলে তাদেরকে জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো লৌহদণ্ড দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে

 

প্রশ্নঃ আমি যেনা করতে চাই।আমি আর নিজেকে সামলাতে পারছি না। দশ বছর যাবৎ ধৈর্য ধরে আছি। আলহামদুলিল্লাহ আমি নামাজ পড়ি। রোজা রাখি।কিন্তু যখনি আমি কোন মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেই বিয়ে ভেঙ্গে যায়। আমি যেনা করতে চাই। আমি যেনা করতে চাই। আমি দোয়া করি কিন্তু দোয়া কবুল হয়না। আমি কি করবো আমি আর পারছিনা।

উত্তর :আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতেই যেনার শাস্তি বেত্রেঘাত ও পাথর নিক্ষেপ হত্যা নির্ধারণ করেছেন।এবং গুনাহর সাথে বেশকিছু বিধান আরোপ করেছে। যেমন : যেনাকারী তওবা না করা পর্যন্ত তাকে বিয়ে করতে দেওয়া হবে না। এ গুনাহর কারণে আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক কঠিন শাস্তি হুমকি দিয়েছেন।

হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) সে শাস্তির কিছু বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে → আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামের একটি চুল্লীতে ব্যভিচারী নর নারীকে উলঙ্গ অবস্হায় একত্র করবেন। সেখানে জাহান্নামের আগুনে তাদেরকে পুরানো হবে।তাদের বিকট শব্দ শুনা যাবে। অতএব যে ব্যক্তি যেনা করতে চায় আমাদের কাছে তার জন্য অনুমতি নেই। আমাদের কাছে যেনার বৈধ মর্মে কোন ফতোয়া নেই।

আগেই বলেছি আপনার সাথে স্পষ্টবাদী হব। আপনি যেমন আমাদের কাছে স্পষ্টবাদী হয়েছেন।ধরুন আপনি যে কঠিন ও কষ্টকর পরিস্থিতির মধ্যে আছেন আল্লাহ তায়ালা না করুন →আপনার বোন বা মা যদি সে অবস্থার পড়ে এবং আপনি যা করতে চাচ্ছেন তারাও তা করতে চায় তখন তাদের এই চাওয়ার ব্যাপারে আপনার মতামত কি হবে

আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর জানি। সুতরাং উত্তর দেওয়া প্রয়োজন নেই। আমরা শুধু এ ব্যাপারে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছি – আপনি যা করতে চাচ্ছেন সেটা কত বড় জঘন্য। যেনা কারীদের নিয়ে জাহান্নামের ভয়াবহ কত শাস্তির হাদিসি তো শুনালাম।

পবিত্র কোরআনের একটি বক্তব্য আপনাকে শুনাতে চাই। আর সেটি হচ্ছে সূরা মোহাম্মদের ১২ নং আয়াত। আল্লাহ তায়ালা যেনাকারীদের দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে বলেন,তারা খায় ও আনন্দ উপভোগ করে যেমন আনন্দ উপভোগ করে চতুষ্পদ জানোয়ার। অর্থ্যাৎ মানুষ এবং জানোয়ারের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে কিন্তু যেনাকারি ও জানোয়ারের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

কেননা যেনাকারীর লজ্জা থাকে না। যৌন পিপাসা মেটানোর নেশায় সে সাধারণ মানবিক লজ্জা হারিয়ে ফেলে। বৈধ অবৈধ মধ্যে আর কোন পার্থক্য থাকে না। এ বিষয়ে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন → যে ব্যক্তি যেনার লিপ্ত হয় তাকে অবশ্যই অবশ্যই দুনিয়াতে ভয়ংকর তিনটি শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তো সে তিনটি শাস্তি কি তা আমরা এখনই জেনে নিবো।

১= সে ব্যক্তি মহামারী রোগে আক্রান্ত হবে। যেমন তার ডায়রিয়া হবে অথবা কলেরা হবে এবং ঐ রোগ থেকে সে আরোগ্য লাভ করতে পারবেনা। যার চুড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে ঐ রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হবে। এবং সে মৃত্যুর সময় কঠিন কষ্ট ও যন্ত্রণা পাবে।

২= যে ব্যক্তি যেনা করবে তার শরীরে আল্লাহ তায়ালা এমন একটি রোগ দিয়ে দিবেন যা তার বংশের মধ্যে কারো নেই। এমন একটি রোগ তাকে ধীরে ধীরে আক্রান্ত করে ফেলবে। যে রোগের চিকিৎসা কোন ডাক্তার দিতে পারবেনা।

৩= যে ব্যক্তি যেনা করবে তার দারিদ্র দেখা দিবে।। অভাব দেখা দিবে কঠিন অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়বে। হাদিসের শেষাংশে বলা হয়েছে জীবন শেষ পর্যারে তার এমন পরিণতি হবে যে তাকে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষার জন্য খুজতে হবে। যেনাকারীর সর্বশেষ শাস্তি হচ্ছে অতি দারিদ্র্যতা।

তো ভাই সর্বশেষ আপনার উদ্দেশ্যে একটি কথাই বলতে চাই। আপনি মোটেই ধৈর্য হারাবেন না বরং আপনার ভুল এবং ত্রটিগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।

আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা দিয়েছেন। তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তায়ালা দ্রুততার সাথে কবুল করে নেন এবং তাদের মাকসুদ পুরন করেন।

১= মজলুমের দোয়া

২= পিতা মাতার দোয়া তার সন্তানের জন্য

৩= কোন অবিবাহিত যুবক যখন অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার জন্য আল্লাহ তায়ালা কাছে দোয়া করেন।আল্লাহ তায়ালা তার অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা দান করেন এবং বিবাহ উপযুক্ত করে দেন।

তো ভাই আপনার জন্য আমার দোয়া রইলো। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে যেন তার রহমতে চাদর ধারা ডেকে নন।

Author: sumon ahmed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *